শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের আজ শুভ জন্মদিন

জনশক্তি ডেস্ক
  • আপডেট সময়: বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১২:৪৭ am

আজ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের ৬৭তম জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি বিক্রমপুরের লৌহজং থানার ‘মেদিনীমণ্ডল’ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার লেখা অনবদ্য উপন্যাস ‘নূরজাহান’ তাকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।যা আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়। শুধু তা-ই নয়, নূরজাহান উপন্যাসটি একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এই অসাধারণ উপন্যাসের জন্য তিনি ভারতের আইআইপিএম-সুরমা চৌধুরী স্মৃতি আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যা এশিয়ার সাহিত্য পুরস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম।

২০০৫ সালে ইমদাদুল হক মিলন জাপান ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘তাকেশি কায়েকো মেমোরিয়াল এশিয়ান রাইটারস লেকচার সিরিজে’ বাংলা ভাষার একমাত্র লেখক হিসেবে জাপানের চারটি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে বাংলাদেশের সাহিত্য এবং তার নিজের লেখা নিয়ে বক্তৃতা করেন।

নব্বইয়ের দশকে সাহিত্য রচনার পাশাপাশি তিনি নাট্যকার হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার লেখা দুই শতাধিক নাটকের মধ্যে কোন কাননের ফুল, বারো রকম মানুষ, রূপনগর, যত দূরে যাই, যুবরাজ, কোথায় সে জন, আলতা, একজনা, নীলু, তোমাকেই, আঁচল, খুঁজে বেড়াই তারে, কোন গ্রামের মেয়ে, মেয়েটি এখন কোথায় যাবে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা পায়। এ ছাড়া অধিবাস, পরাধীনতা, কালাকাল, বাঁকা জল, নিরন্নের কাল, পরবাস, কালোঘোড়া, নেতা যে রাতে নিহত হলেন, মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস সমগ্র, একাত্তর, সুতোয় বাঁধা প্রজাপতি, যাবজ্জীবন, মাটি ও মানুষের উপাখ্যান, পর, কেমন আছ সবুজপাতা, জীবনপুর প্রভৃতি তার বিখ্যাত বই। বাংলাদেশের সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তার ভূমিকা ব্যাপক।

লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতায়ও তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। বর্তমান তিনি দেশের জনপ্রিয় কালের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক। বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনের দিকপাল ইমদাদুল হক মিলনের শৈশব কেটেছে বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে। তিনি ঢাকার গেণ্ডারিয়া হাই স্কুল থেকে এসএসসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি এবং অনার্সসহ অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর হাতেখড়ি ১৯৭৩ সালে ‘বন্ধু’ নামে ছোটগল্পের মাধ্যমে। তখন তিনি উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। এরপর প্রথম উপন্যাস ‘যাবজ্জীবন’ বাংলা একাডেমী সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এই উপন্যাস পাঠকমহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কাটিয়েছেন জার্মানিতে। সেই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা নিয়ে রচনা ‘পরাধীনতা’ তাঁকে পৌছে দিয়েছে খ্যাতির শীর্ষে। অবশ্য প্রথম গ্রন্থ ‘ভালবাসার গল্প’ (১৯৭৭) থেকেই তিনি বিপুলভাবে সংবর্ধিত, পাঠকপ্রিয়। বাংলাদেশের সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তাঁর ভূমিকা ব্যাপক। ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার এরই স্বীকৃতি।লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির সাহিত্য পুরস্কার, এসএম সুলতান পদক, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন পদক, শেরেবাংলা পদক, টেনাশিনাস পুরস্কার, জাপান বিবেক সাহিত্য পুরস্কার, কলকাতা চোখ সাহিত্য পুরস্কার, জাপান রাইটার্স অ্যাওয়ার্ড, মাদার তেরেসা পদক, বাচসাস পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© All rights reserved © janashokti

Developer Design Host BD