
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিরু হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আরও দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তারা হলেন, উপজেলার চর নয়াডাঙ্গী গ্রামের কাজী আয়নাল হকের ছেলে কাজী কাউছার (১৮) এবং চর আজিমপুর গ্রামের সায়েম ফকিরের ছেলে মো. হাবিবুল্লাহ ওরফে রাকিব (১৮)। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তারা। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সবাই মিরু হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বুধবার (১৭ মার্চ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কাজী কাউছার ও হাবিবুল্লাহ ওরফে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে সিঙ্গাইর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা মিরু হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ফারুক হোসেন মিরু উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সিঙ্গাইর সরকারি কলেজের ভিপি ছিলেন। তিনি সিঙ্গাইর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের আজিমপুর গ্রামের (রংয়ের বাজার) আব্দুল কাদেরের ছেলে। ১ মার্চ রাতে নিজ দলের সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে গত ২ মার্চ দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাযান তিনি। নৃশংস এই খুনের ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। মামলার আসামীরা হলেন, পৌর এলাকার আজিমপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা ওরফে ধুনাই মোল্লার ছেলে সিঙ্গাইর কলেজ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো: দুলাল (২৪), তার ভাই উপজেলা মটর শ্রমীক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন আঙ্গুর (৩৪), আলাল মোল্লা (২৮), ইমরান মোল্লা (২০), সোহান মোল্লা (১৭), একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে হিমেল (২৭), তমিজ উদ্দিন তজুর ছেলে আমিনুর (৩২), বাচ্চু মিয়ার ছেলে নাজমুল (৩০), সুকুম আলীর ছেলে রনি (২৫), ইদ্রিস আলীর ছেলে হাবেজ ওরফে হাফেজ, সামছুল হকের ছেলে ইমান আলী (৩০) ও বাবুল হোসেনের ছেলে হৃদয় (২৯)।