শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

ফরিদপুর-২: সাংসদপুত্রদের দ্বন্দ্বে বিপাকে আওয়ামী লীগ

জনশক্তি ডেস্ক
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১০:১২ am

জনশক্তি রিপোর্ট: কিছুদিন আগেও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ফরিদপুর-২ আসনের সাংসদ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার রাজনীতি সামলেছেন তাঁর বড় ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী। আর এখন প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যাচ্ছে ছোট ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরীকে, যা মানতে পারছেন না আয়মন।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সাজেদার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারদের এই দ্বন্দ্ব উত্তাপ ছড়াচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনীতিতে এবং আন্দোলন-সংগ্রামে যে কজন নারী রয়েছেন, তাঁদের একজন সাজেদা চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধে এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর জেল-জুলুম সহ্য করে আওয়ামী লীগের পতাকা উড্ডীন রেখেছিলেন সাজেদা চৌধুরী। কিন্তু এলাকার রাজনীতিতে সাজেদা যাঁদের কাছে টেনে দায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁরাই সাজেদাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন এবং নিজেদের আখের গোছাতে তৎপর হন।

এ কারণে ‘সাজেদা আওয়ামী লীগের কেমন প্রার্থী?’ আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মীকে প্রশ্ন করা হলে তাঁদের উত্তর দাঁড়ায়, ‘সাজেদা ভালো, তবে কাছের মানুষটি ভালো না।’ কিছুদিন আগ পর্যন্ত (২১ মার্চ) বড় ছেলে আয়মন আকবর ওরফে বাবলু চৌধুরী ছিলেন সাজেদার সবচেয়ে কাছের মানুষ। তিনি দলের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি দেখছেন ছোট ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরী। তিনি প্রবীণ নেতা-কর্মীদের আবারও দলে সক্রিয় করছেন।

এ নিয়ে দুই ছেলের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এখন চরমে। আয়মনের দাবি, মা তাঁকে নিয়েই এলাকায় যেতে চান। তিনিই মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী। গত ২১ মার্চের পর আয়মন আকবর এলাকায় এসেছেন বলে শোনা যায়নি। তবে শাহদাব আকবর মাঝেমধ্যেই আসছেন, কখনো মায়ের সঙ্গে, আবার কখনো একা। দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন।

হালে সাজেদার দুই ছেলের দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ সহিংস আকারে এলাকায় আওয়ামী রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে। আয়মন আকবরের সমর্থক বাদলের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে শাহদাবের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

আয়মন আকবর বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। মাকে (সাজেদা) ছোট ভাই আটকে রেখেছেন। আমি আমার মাকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।’

শাহদাব আকবর বলেন, ‘পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। আমার প্রত্যাশা, আগামী নির্বাচনের সময় মা ঘরে থাকবেন, আমরা তাঁর কর্মীদের নিয়ে গ্রামগঞ্জে ঘুরে ভোট সংগ্রহ করে সাজেদা চৌধুরীকে নির্বাচিত করব।’

সাজেদা চৌধুরীর বাইরে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আতমা হালিম। ২০১৩ সালে তাঁর গাড়িবহর সালথায় ঢোকার পথে সাজেদার সমর্থকদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আতমা হালিম বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। দীর্ঘদিন ধরে আমি এ লক্ষ্যে এলাকায় গণসংযোগ করে আসছি। হামলা হলেও আমি লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি।’

দলের মনোনয়ন চান সাজেদার সাবেক এপিএস ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের পরিচালক জামাল হোসেন, জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক সাংসদ সাইফুজ্জামান চৌধুরী ওরফে জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা কাজী দেলোয়ার হোসেন, জেলা কৃষক লীগের নেতা লায়েকুজ্জামান। এলাকায় নিজেদের মতো করে গণসংযোগ চালালেও এই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বলছেন, যদি সাজেদা চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন, তাহলে তাঁরা সভানেত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইবেন।

জনশক্তি/এস

শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© All rights reserved © janashokti

Developer Design Host BD