
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে একটি মহিলা মাদ্রাসার নারী সুপার মোসাম্মাৎ হাজেরা আক্তারকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৬ আসামীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পৌর শহরের কাংশা রোড থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের লক্ষীপুর তালতলা গ্রামের মোসলেম উদ্দিন মুসা (৫৫), তার স্ত্রী মোসাম্মাৎ তাছলিমা (৪৫), ছেলে আলমগীর (২৬) হাফিজুর রহমান (২৪), মেয়ে আমেনা বেগম (৩০) ও পৌর এলাকার আজিমপুর গ্রামের আবু সায়েদ (৩০)।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত রবিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার লক্ষীপুর তালতলা গ্রামের ইস্রাফিল মিয়ার স্ত্রী হাজেরা আক্তারের বসত বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে তারই ভাসুর মুছলেম উদ্দিন মুসা ও তার পরিবারের সদস্যরা। এসময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
পরে হাজেরা আক্তারের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হাজেরা আক্তার উপজেলার গোবিন্দল জায়নব বিনতে মুহাম্মদ(সাঃ) বালিকা মাদরাসা ও এতিম খানার সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হামলা ও মারধরের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোসলেম উদ্দিন মুসা (৫৫), তার স্ত্রী মোসাম্মাৎ তাছলিমা (৪৫), ছেলে আলমগীর (২৬) হাফিজুর রহমান (২৪), মিলন (২৮) মেয়ে আমেনা বেগম (৩০) ও পৌর এলাকার আজিমপুর গ্রামের আবু সায়েদ (৩০) ও অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেন নির্যাতিত হাজেরা আক্তারের ভাই মো: আবু সায়েম।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারেকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে আসামীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে এজহারভুক্ত ৭ আসামীর মধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামী মিলনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরু জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবেনা।