
অবশেষে ঠাঁই হলো মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে রাতের আঁধারে কুড়িয়ে পাওয়া সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতকের। পরিচয়হীন এই নবজাতককে পরম মমতায় আপন করে নেন পৌর এলাকার বকচর গ্রামের রিয়াজুদ্দিন ও মিশু আক্তার মোর্শেদা দম্পতি।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৯ মে) দিবাগত গভীর রাতে কে বা কারা সিঙ্গাইর পৌর এলাকার বকচর গ্রামের রিয়াজুদ্দিনের বাড়ির প্রবেশপথে একটি মেয়ে নবজাতককে ফেলে রেখে যায়। নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায় রিয়াজুদ্দিন দম্পতির। পরে পরিচয়হীন নবজাতকের নিজেদের হেফাজতে নেন তারা।
এদিন সকালে বিষয়টি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের জানান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা, সহকারী পুলিশ সুপার (সিঙ্গাইর (সার্কেল) মো. রেজাউল হক, পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো.সফিকুল ইসলাম মোল্লা ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম ঘটনাস্থলে যান। পিতৃপরিচয় না পাওয়ায় নবজাতকটিকে লালন পালনের জন্য রিয়াজুদ্দিন ও মিশু আক্তার মোর্শেদা দম্পতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে সমাজসেবা অফিসারের মাধ্যমে নবজাতকটিকে সাময়িকভাবে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. ইমানুর রহমান বলেন, কে বা কারা শিশুটিকে গভীররাতে রিয়াজুদ্দিনের বাড়ির প্রবেশপথে ফেলে রেখে যায়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। নবজাতকটিকে রিয়াজুদ্দিন দম্পতি লালন পালনের ইচ্ছা পোষন করেন। পরে শিশুকল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শর্ত সাপেক্ষে সাময়িকভাবে সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রিয়াজুদ্দিন বলেন, আমার দুটি সন্তান আছে। স্থায়ীভাবে পেলে নবজাতক শিশুটিকে নিজের সন্তানের মতই লালন-পালন করে মানুষ করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে শিশুটিকে লালন পালনের জন্য সাময়িকভাবে রিয়াজুদ্দিন দম্পতির কাছে রাখা হয়েছে। কেউ দত্তক নিতে চাইলে নবজাতকটিকে শিশুকল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দেওয়া হবে।
এদিকে নবজাতককে আশ্রয় দেওয়া রিয়াজুদ্দিন দম্পতিকে তাৎক্ষণিক ভাবে আর্থিকভাবে সহায়তা করেন সহকারী পুলিশ সুপার (সিঙ্গাইর (সার্কেল) মো. রেজাউল হক। এছাড়া প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পরিমান আর্থিক সহায়তা দিবেন বলে জানান মানবিক হৃদয়ের এই পুলিশ কর্মকর্তা।