বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

অর্থাভাবে মৃত্যুশয্যায় ক্রিকেটার চামেলী

জনশক্তি ডেস্ক
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৮ ৭:৩৯ pm

জনশক্তি রিপোর্ট: জাতীয় নারী দলের হয়ে প্রায় ১২ বছর মাঠ মাতিয়ে রাখা ক্রিকেটার রাজশাহীর চামেলি খাতুন উন্নত চিকিৎসার অভাবে বিছানায় ধুঁকছেন। প্রায় এক মাস ধরে বিছানায় পড়ে আছেন ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মুনজুর রহমান বলেন, লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়াসহ মেরুদণ্ডে হাড়ের ব্যথা রয়েছে চামেলির। হাড়ের ডিস্কগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অবশ হয়ে যাচ্ছে তার পুরো ডান পাশ। মেরুদণ্ডে শিগগির অস্ত্রোপচার জরুরি। প্রায় এক মাস আগে তাকে ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থসংকটে তিনি যেতে পারছেন। রাজশাহীতে আমরা তাকে সাধ্যমত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।

রাজশাহী নগরের দরগাপাড়ায় চামেলি তার পরিবারের সঙ্গে থাকেন। সেখানে আছে তার বাবার পৌনে এক কাঠা জমির ওপর দুই রুমের একটি বাড়ি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ ছোট্ট দুটি ঘরে থাকছেন চামেলি, তার বাবা রোস্তম আলী, মা মনোয়ারা বেগম ও অবিবাহিত বড় বোন চম্পা খাতুন।

চামেলি একজন আনসার সদস্য। চারজনের সংসারটি চলে চামেলির আয় দিয়ে। ১৯৯৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত জাতীয় নারী দলে খেলার পাশাপাশি সমানে খেলেছেন ফুটবলও। অ্যাথলেটিক্সেও তিনি পারদর্শী।

২০১০ সালে এশিয়া কাপে রানার আপ হয় বাংলাদেশ। চামেলি ছিলেন এই দলের দাপুটে ক্রিকেটার।

এখন তিনি বিছানায় ছটপট করছেন। কাতরাচ্ছেন মেরুদণ্ডের ব্যথায়। কথা বলার সময় তার ডান পা ও হাত কাঁপছিল। বিছানায় ছয়টি বালিশ দিয়ে এপাশ-ওপাশ করে দিচ্ছিলেন তার মা ও বোন।

ঘণ্টাখানেক পরপর তাকে এপাশ-ওপাশ করে দিতে হয় বলে জানান তারা। একই সঙ্গে ম্যাসাজ করতে হয় নিয়মিত। না হলে স্থায়ীভাবে অবশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

চামেলি বলেন, প্রায় আট বছর আগে জিম করার সময় মাজায় ব্যথা পাই। এরপর থেকে মাঝেমধ্যেই ব্যথা অনুভব হত। ওষুধ খেয়ে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করে আনসারের চাকরি করতাম। দেড় বছর আগে ঢাকা থেকে বদলি হয়ে রাজশাহী চলে আসি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর অফিসে কাজ করার সময় ডান হাত ও পায়ে কাঁপুনি উঠে পড়ে যাই। সেখান থেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন বাইরে গিয়ে সার্জারির জন্য দরকার কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা।

চামেলি প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে সাহায্যের আবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি বলে জানান।

তিনি বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বোর্ডের কর্মকর্তা ফাইম আহমেদকে জানাই। তিনি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রসহ জাতীয় দলের কাগজপত্র দ্রুত মেইল করে পাঠাতে বলেন। ওই দিনই পাঠিয়ে দিই। কিন্তু এক মাস হয়ে গেলেও কোনো সাড়া মেলেনি। তবে ফাইম আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে কিছু সহযোগিতা করেছেন।

চামেলির মা-বাবাও অসুস্থ। তার মায়ের প্রতি সপ্তায় ৬০০ টাকার ওষুধ লাগে। চামেলি ছাড়া তাদেরও বেঁচে থাকার কোনো পথ নেই বলে তারা জানান।

চামেলি ছোটবেলা থেকে খেলাধুলার প্রতি বিশেষ আকৃষ্ট ছিলেন। তার বোন চাম্পা খাতুন বলেন, রাজশাহীর হেতেমখা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস চামেলি ছোটবেলা থেকে খেলার নেশায় আসক্ত ছিল। কোনোভাবেই তাকে আটকে রাখা যেত না। পালিয়ে পালিয়ে খেলতে যেত। স্কুলের সব খেলায় সে প্রথম হত। এখন সবকিছু অনিশ্চয়তার মধ্যে।

সূত্র: বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম
জনশক্তি/এস

শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© All rights reserved © janashokti

Developer Design Host BD